শীতের দুপুরে

শীতের দুপুরে আমি হেঁটে যাই আলপথ ধরে,
দুপাশে উর্বর জমি ফসলে ফসলে ছয়লাপ
হয়ে আছে, আলু, সীম, বরবটি, মূলো থরে থরে
যতনের ঘেরাটোপে, গায়ে মাখছে পৌষালি উত্তাপ!

শীতের দুপুরে এই বাংলাকে বড় মায়াময়,
মনে হয়, আনাচে-কানাচে কত মায়া জেগে আছে
প্রকৃতির কোলে- আজো হারাবার নেই কোনো ভয়,
শিশু আর নারীরাও নিরাপদে খেয়ে পরে বাঁচে!

শীতের দুপুরে আজো 'পিকনিক' হয় মাঠ জুড়ে
কাঠের উনুনে সব ডিম-ঝোল, মাংস-ভাত খায়,
গোরু-মোষ মাঠে চরে, পাখিরাও আসে উড়ে উড়ে,
দিন শেষে শ্রান্ত দেহে ফিরে যায় যে যার কুলায়!

শীতের দুপুরে আমি হেঁটে যাই আলপথ ধরে,
মনে মনে কোনো এক অচিন গ্রামের ঠিকানায়,
পিঠে-পুলি, মাছ-ভাত, খেয়ে আসি প্রতি ঘরে ঘরে,
গ্রাম, নদী, মাঠ সব আমারই তো থাকে প্রতীক্ষায়!

Comments

Popular posts from this blog

গনগনে রোদে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমার খুব শ্মশানের কথা মনে পড়ে। শৈশবে শ্মশানের খুব কাছাকাছি বড় হয়ে ওঠা আমি, মুহূর্তেই যেন সে দিনগুলোয় ফিরে যাই। যে দিনগুলোয় অকারণেই আমি খুব অভিমানী হয়ে উঠতাম, যখন রাত্তিরবেলায় 'হরিবোল' ধ্বনি, মাঝে মাঝেই আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো অগম্য ঠিকানায়! বিছানায় শুয়ে থাকা আমার শরীর,মুহূর্তেই ল্যাম্প-পোষ্ট ভেদ করে কোথায় যে ভেসে যেতে যেতে অন্ধকার রাতে স্পষ্ট শুনতে পেতো নীচে একদঙ্গল জনতার 'হরিবোল' ধ্বনি! ওরা কি আমাকে শ্মশান পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে? জানার আগেই ঘুম ভেঙ্গে যেতো এক অজানা আতঙ্কে,আমি কখনো ভয়ে বিড়বিড় করতাম, আর ঘুম ভেঙ্গে যেতো! কখনো বা অন্য কোনো ভয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতো! মনে হতো এ কোন রহস্যময় জগতে আমার ঠিকানা! এই ভয়গুলো আজও আমার সঙ্গ ছাড়েনি, কেন কীজানি...!আজও সেই গনগনে রোদের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমার শ্মশানের কথা মনে পড়ে! আর আমার দেহ টা মুহূর্তেই একটা মৃতদেহ হয়ে যায়! দেহের খাঁচা পুড়তে পুড়তে যখন ছাই হতে থাকে, আমি তখন গনগনে রোদের আঁচ অনুভব করি আর আমার বালিশের তূলো ভেসে ভেসে পেঁজা-তূলোর মত মেঘের সঙ্গে মিশে যায়, আমি ধরতে গিয়েও পারিনা। শুধু দেখি, দেখতেই থাকি! (২০১৭)

ছড়া