গল্প

বুঝলে, ভাবছি এই স্মার্ট ফোন' টা তোমাকেই দিয়ে দেবো'
 ,'মানে'?
'মানে, আমার আর স্মার্ট  হওয়ার দরকার নেই, তুমি এবার দেখো, চেষ্টা করে একটু স্মার্ট  হওয়া যায় কি না...
'বাবাঃ এ তো দেখছি ভূতের মুখে রাম-নাম! তা তোমার এত লেখালেখির কী হবে? তোমার ফেসবুক, তার লাইক, কমেণ্ট- যার ঢেউ এ তুমি সারাদিন ভাসতে থাকো!'
'এটাই তো কাল হয়েছে! যৌবনের শখটা ভেবেছিলাম শেষ জীবনে আর একবার ঝালিয়ে নেবো। সেটা ভেবেই আবার লেখালেখি শুরু করেছিলাম। তা বন্ধুরা এত লাইক, কমেণ্টের ঝড় তুললো, নিজেকে কেমন রবি-বাবুর উত্তরসূরী মনে হলো!
ওদের ভালোবাসায় ধন্য হয়ে নিজের ট্যাঁকের পয়সা খরচ করে বই-ও বেরোলো।  কিন্তু  এখন দেখ অবস্থা, একটা বই-ও কেউ কেনার নাম নিল? প্রিয়জনদের কিছু বিলোনোর পর বাকী গুলো বস্তাবন্দী হয়ে পড়ে আছে, কদিন পরে পোকার ভোগে যাবে।'
'হবে, হবে। এসব নিয়ে এত ভেবো না! সারাজীবন তো শুধু অফিস আর বাড়ি-ই করলে! কে তোমাকে চিনতো আর? এখন যে নামটুকু হয়েছে, সে তো ঐ লেখার জন্যই, আমার-ও তোমার জন্য ষ্টেটাস কত বেড়ে গেছে জানো!'
'তোমার ষ্টেটাস বেড়েছে? সেটা কীভাবে?'
'আর বলতে! আমাদের পাড়ার ক্লাবে সবাই এখন আমাকে সাহিত্যিকের স্ত্রী হিসেবে আলাদানজরে দেখে গো! আগে যে মিসেস নন্দী আমাকে দেখলে চিনতোই না, এখন আমার কত খাতির তার কাছে!'
'তাই? তা কেমন খাতির করলো?'
সেদিন আমাকে ওর বাড়িতে জোর করে নিয়ে গেলো। একথা-সেকথার পর প্লেট ভর্তি মিষ্টি, চা নিয়ে এলো, যদিও আমি একটা মিষ্টি-ই খেলাম। তারপর বললো, ওদের বাগানবাড়িতে আমাদের সপরিবারে নেমন্তন্ন করতে আসবে, এ-ও বললো, ও জানতোই না, তুমি এত ভালো লেখো, তোমার বই বেরিয়েছে, ফেসবুকে ও নাকি তোমার লেখার ফ্যান! আরো বললো, ও নিজেও লেখে, একটা বই বার করবে, এ ব্যাপারে তোমার সঙ্গে কথা বলতে আসবে...'
'ও বাবা.. এত কিছু? তা, মহিলার নাম?'
'ফেসবুকে ওর নাম স্বপ্নকুহকিনী!'
'তাহলে... ইনি-ই সেই!'
মানে?
'নাঃ, কিছু নয়!'
************************************বি.দ্রঃ. ** সেদিন-ই স্মার্টফোনটা  তড়িঘড়ি বিক্রী হয়ে গেলো... কত দাম, ক্রেতার নাম জানিনা, আপনারা জানেন কি?
************************************
কপোতাক্ষী ব্রহ্মচারী চক্রবর্তী  ©

Comments

Popular posts from this blog

গনগনে রোদে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমার খুব শ্মশানের কথা মনে পড়ে। শৈশবে শ্মশানের খুব কাছাকাছি বড় হয়ে ওঠা আমি, মুহূর্তেই যেন সে দিনগুলোয় ফিরে যাই। যে দিনগুলোয় অকারণেই আমি খুব অভিমানী হয়ে উঠতাম, যখন রাত্তিরবেলায় 'হরিবোল' ধ্বনি, মাঝে মাঝেই আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো অগম্য ঠিকানায়! বিছানায় শুয়ে থাকা আমার শরীর,মুহূর্তেই ল্যাম্প-পোষ্ট ভেদ করে কোথায় যে ভেসে যেতে যেতে অন্ধকার রাতে স্পষ্ট শুনতে পেতো নীচে একদঙ্গল জনতার 'হরিবোল' ধ্বনি! ওরা কি আমাকে শ্মশান পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে? জানার আগেই ঘুম ভেঙ্গে যেতো এক অজানা আতঙ্কে,আমি কখনো ভয়ে বিড়বিড় করতাম, আর ঘুম ভেঙ্গে যেতো! কখনো বা অন্য কোনো ভয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়াতো! মনে হতো এ কোন রহস্যময় জগতে আমার ঠিকানা! এই ভয়গুলো আজও আমার সঙ্গ ছাড়েনি, কেন কীজানি...!আজও সেই গনগনে রোদের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমার শ্মশানের কথা মনে পড়ে! আর আমার দেহ টা মুহূর্তেই একটা মৃতদেহ হয়ে যায়! দেহের খাঁচা পুড়তে পুড়তে যখন ছাই হতে থাকে, আমি তখন গনগনে রোদের আঁচ অনুভব করি আর আমার বালিশের তূলো ভেসে ভেসে পেঁজা-তূলোর মত মেঘের সঙ্গে মিশে যায়, আমি ধরতে গিয়েও পারিনা। শুধু দেখি, দেখতেই থাকি! (২০১৭)

ছড়া

শীতের দুপুরে