Posts

কবিতা

উনিশকে দেখিনি কোনোদিন, তবু তার রক্তে মিশে আছি আজীবন! আমার জন্মের ঠিক এক-দশক আগে, গুলিবিদ্ধ হয়েছিল যে এগারো তরতাজা  প্রাণ- ওদের রক্তের বিনিময়ে, আমরা ফিরে পেয়েছিলাম, আমাদের মাতৃভাষার অধিকার! যে ভাষায় কথা বলে, গান গেয়ে, আমরাও আজ সব হয়েছি সাকার- প্রাপ্ত সে অধিকার-বলে... আসামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে- একাদশ-শহীদের এই বলিদান, আমরাও ভুলতে পারিনা কোনোদিন! ভাষা শহীদের শিলচরে, রক্তের ফোঁটা যেন বৃষ্টি হয়ে ঝরে... যে ধারায় প্রতিদিন- স্নাত হই আমরা বাঙালী আর আমাদের তৃতীয় ভুবন- যে ভাষায় হাসি- কাঁদি, গান গাই, সে সবার সম্মিলিত-ধন! একাদশ শহীদের আত্ম-দান বারবার করায় স্মরণ, আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের অমূল্য -রতন! 

গল্প

বাতিক বাবু     -------------------      (কপোতাক্ষী ব্রহ্মচারী চক্রবর্তী)  ------------------------------- বাতিক বাবুর বাতিকটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যেখানে সেখানে, অস্থানে কুস্থানে তার এই বাতিক প্রদর্শনের অহেতুক বাড়াবাড়িতে তার পরিবার, কর্মস্থলের সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব, সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারই পরিণামে তিনি তার পিতৃ -প্রদত্ত নামটি হারিয়ে সবার কাছে হয়ে উঠেছেন 'বাতিক-বাবু'! তার যে স্ত্রী সাত-চড়ে-রা কাড়তেন না,পতি পরম গুরু মেনে তিনকালের শেষ কালে এসে ঠেকেছেন, তিনিও সেদিন সমস্ত কুণ্ঠা ঝেড়ে ফেলে বলে উঠলেন... 'বাতিক বাবু গেলেন কোথায়? সত্যি এ মানুষ টার বাতিকের জ্বালায় হাড় মাস কালি হয়ে গেলো!' পতি-পরায়ণা স্ত্রীর এতটা বাক-স্বাধীনতা বাতিক-বাবু কল্পনাও করতে পারেন নি। যাকে তিনি সারাজীবন সংসারের ভালো-মন্দের পাঠ দিয়ে এলেন, আর সে-ও একনিষ্ঠ ছাত্রী হয়ে তার দেওয়া সমস্ত জ্ঞান তদ্গত চিত্তে গ্রহণ করলো, তার মুখে আজ এ কী ভাষা!  'নাঃ, এ মেনে নেয়া যায় না'... অপমান সহ্য করতে না পেরে, রাগে গজগজ করতে করতে, কাউকে কিচ্ছুটি না বলে, বাড়ি থেকে হনহন করে হাঁটা দিলেন বাতিক বাবু! যে...

শীতের দুপুরে

শীতের দুপুরে আমি হেঁটে যাই আলপথ ধরে, দুপাশে উর্বর জমি ফসলে ফসলে ছয়লাপ হয়ে আছে, আলু, সীম, বরবটি, মূলো থরে থরে যতনের ঘেরাটোপে, গায়ে মাখছে পৌষালি উত্তাপ! শীতের দুপুরে এই বাংলাকে বড় মায়াময়, মনে হয়, আনাচে-কানাচে কত মায়া জেগে আছে প্রকৃতির কোলে- আজো হারাবার নেই কোনো ভয়, শিশু আর নারীরাও নিরাপদে খেয়ে পরে বাঁচে! শীতের দুপুরে আজো 'পিকনিক' হয় মাঠ জুড়ে কাঠের উনুনে সব ডিম-ঝোল, মাংস-ভাত খায়, গোরু-মোষ মাঠে চরে, পাখিরাও আসে উড়ে উড়ে, দিন শেষে শ্রান্ত দেহে ফিরে যায় যে যার কুলায়! শীতের দুপুরে আমি হেঁটে যাই আলপথ ধরে, মনে মনে কোনো এক অচিন গ্রামের ঠিকানায়, পিঠে-পুলি, মাছ-ভাত, খেয়ে আসি প্রতি ঘরে ঘরে, গ্রাম, নদী, মাঠ সব আমারই তো থাকে প্রতীক্ষায়!

ছড়া

রান্নাবাড়া অনেক হলো, ভাল্লাগেনা আর, ভাবতে ভাবতে কমেণ্ট এলো, দারুণ, চমৎকার! ভাবছি এখন, লিখব নাকি? আজ যা নগদ, কাল তা বাকী, বাসি ভাতেই মটন-পোলাও, মশলা মজাদার... খাবে তো খাও, নয় তো আমি যাচ্ছি পগারপার! 'না খেয়ে আর উপায় বা কী? মনের দুঃখ মনেই রাখি, সবকিছুই ওপর-চালাকি, এটাই সারাৎসার... শুনছ? আমার রাত্তিরেও পোলাও চাই আবার!' এবার দুটো স্মাইলি দিয়ে, পোলাও চাখতে যাই পালিয়ে, জমছে পোলাও, তেলেঘিয়ে, সুগন্ধ কী তার! বাকী গল্প জমা থাকলো, হবে পরের বার! ------কপোতাক্ষী ©

ছড়াক্কা

বিরাট তটিনী  বলে পারানি কে, কারা বলে তোকে শূদ্র? যারা বলে তারা কিছুই কি জানে? জানে না তো তাই, শুধু জাত মানে! ব্রাহ্মণ  হয় তোর হাতে পার- এমন ক্ষমতা আছে কজনার? অহংকারের মুখোশে আসলে নিজেকেই করে ক্ষুদ্র! ~~~কপোতাক্ষী ব্রহ্মচারী চক্রবর্তী 

গল্প

বুঝলে, ভাবছি এই স্মার্ট ফোন' টা তোমাকেই দিয়ে দেবো'  ,'মানে'? 'মানে, আমার আর স্মার্ট  হওয়ার দরকার নেই, তুমি এবার দেখো, চেষ্টা করে একটু স্মার্ট  হওয়া যায় কি না... 'বাবাঃ এ তো দেখছি ভূতের মুখে রাম-নাম! তা তোমার এত লেখালেখির কী হবে? তোমার ফেসবুক, তার লাইক, কমেণ্ট- যার ঢেউ এ তুমি সারাদিন ভাসতে থাকো!' 'এটাই তো কাল হয়েছে! যৌবনের শখটা ভেবেছিলাম শেষ জীবনে আর একবার ঝালিয়ে নেবো। সেটা ভেবেই আবার লেখালেখি শুরু করেছিলাম। তা বন্ধুরা এত লাইক, কমেণ্টের ঝড় তুললো, নিজেকে কেমন রবি-বাবুর উত্তরসূরী মনে হলো! ওদের ভালোবাসায় ধন্য হয়ে নিজের ট্যাঁকের পয়সা খরচ করে বই-ও বেরোলো।  কিন্তু  এখন দেখ অবস্থা, একটা বই-ও কেউ কেনার নাম নিল? প্রিয়জনদের কিছু বিলোনোর পর বাকী গুলো বস্তাবন্দী হয়ে পড়ে আছে, কদিন পরে পোকার ভোগে যাবে।' 'হবে, হবে। এসব নিয়ে এত ভেবো না! সারাজীবন তো শুধু অফিস আর বাড়ি-ই করলে! কে তোমাকে চিনতো আর? এখন যে নামটুকু হয়েছে, সে তো ঐ লেখার জন্যই, আমার-ও তোমার জন্য ষ্টেটাস কত বেড়ে গেছে জানো!' 'তোমার ষ্টেটাস বেড়েছে? সেটা কীভাবে?' 'আর বলতে! আমাদের পাড়ার ক্লাবে ...

একটা দিন

একটা দিন একটা রাত  সন্ধিকাল বছর শেষ মানেই আজ  নতুন সাল!  ফি-বছর  জন্মদিন, কিন্তু কার?  সঙ্গে যার হচ্ছে রোজ অঙ্গীকার! যতই হোক জীবন আজ টালমাটাল  বছরভর  চলবে তার  রিহার্সাল!  ~~~কপোতাক্ষী  ব্রহ্মচারী চক্রবর্তী